আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়ায় ঢাকা সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়।
সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কীভাবে যাবে? বাংলাদেশ সরকারের কাউকে কি আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা। তবে ভারতে সরকারপ্রধানের দ্বিপক্ষীয় সফর হতে পারে।
দিল্লি সফরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় ফোরামে অংশগ্রহণের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরে জোর দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সফর ও আলোচনার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছি। যখন পরিবেশ অনুকূল হবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় থাকবে, তখন দ্বিপক্ষীয় সফর হবে। এখানে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই।’
আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অংশগ্রহণের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে ওই আমন্ত্রণপত্রে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ না করে শুধু বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়, যা ভালোভাবে নেয়নি ঢাকা।
গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের জাতীয় স্বার্থ যেখানেই জড়িত, সেখানেই আমরা গুরুত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করব। আনন্দবাজার পত্রিকা যাই বলুক না কেন, আমি আমার দেশের স্বার্থ ও আনন্দের কথা ভাবব।’
বাণিজ্য ইস্যুতে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা নতুন আপডেট দেওয়ার মতো কিছু নেই।’
রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান নিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এই ধরনের জটিল বিষয়ে তো হুট করে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যায় না। ধৈর্য ধরতে হবে, তবে কূটনৈতিক তৎপরতা দ্রুত গতিতে চালাতে হবে। আমরা আগামীকালই এটা সমাধান করে ফেলব—এমন দাবি হয়তো করা যাবে না, তবে আমরা আশাবাদী যে দ্রুতই একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।’
